টলিউডে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বিতর্ক ফের উসকে দিল প্রশাসনিক প্রস্তাব, কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাপিয়া অধিকারীর

টলিউডে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বিতর্ক ফের উসকে দিল প্রশাসনিক প্রস্তাব, কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাপিয়া অধিকারীর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিনোদন – টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশাসনিক রদবদলের আবহে ফের সামনে এসেছে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ প্রসঙ্গ। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় আয়োজিত এক বৈঠকে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টলিপাড়ার সংগঠন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনা।

সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তিনি জানান, ভবিষ্যতে টলিউডের পরিচালন কাঠামো দিল্লি-নিয়ন্ত্রিত একটি কো-ফেডারেশনের অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমানে একাধিক গিল্ড ও সংগঠনের পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক স্বচ্ছ কমিটি গঠন করলে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং দুর্নীতির অভিযোগ কমবে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘ডি কিউব’ (ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট) নীতি প্রয়োগের কথাও উল্লেখ করেন।

পাপিয়া অধিকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের একাধিক সংগঠক ও গিল্ড প্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই ভবিষ্যতে অভিযুক্তদের টলিউডে কাজের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করার প্রস্তাব তিনি সামনে আনেন। তবে অন্য রাজ্যের বিনোদন জগতে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না বলেও তিনি জানান।

এই ঘোষণার পরই নতুন করে শুরু হয়েছে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বিতর্ক। অতীতে টলিউডে বিভিন্ন শিল্পী ও কলাকুশলীর বিরুদ্ধে কাজের সুযোগ সীমিত করা বা নিষিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, টলিউড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের অধীনেই পড়ে।

অন্যদিকে অভিনেত্রী ও বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তাঁর জানা নেই, তাই মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

এখনও পর্যন্ত টলিউডের বিভিন্ন সংগঠন, কলাকুশলী এবং শিল্পীদের সঙ্গে এই প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে কোনও যৌথ আলোচনা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং শিল্পমহল কীভাবে তা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

টলিপাড়ার অন্দরে এখন মূল প্রশ্ন—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ‘ব্যান সংস্কৃতি’র মধ্যে সীমারেখা কোথায় টানা হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিনোদন জগৎ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top