রাজ্য – ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন তাঁর ভয়েস স্যাম্পেল সংগ্রহ করা হবে। এই নির্দেশ জারি হওয়ার পর তা পৌঁছে দিতে সিআইডি আধিকারিকরা রাতেই তাঁর বাসভবনে যান বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহ বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পক্ষের আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে আবেদন জানিয়ে চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশ যাওয়া একান্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে না। ফলে আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার শুনানির সময় অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতের নজরে আনেন যে, চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতেও অন্য একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন অভিষেক। তবে এবার আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
শুনানির সময় মামলার অপর পক্ষের আইনজীবী দেবজিৎ সরকার যুক্তি দেন যে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। তিনি নির্ধারিত সময়েই হাজিরা দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে প্রশ্নোত্তরের মুখোমুখি হতে হয়। তদন্তকারীরা তাঁর বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্যের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, বক্তব্যের অর্থ এবং তা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, মন্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল নাকি তা জনমনে উস্কানি সৃষ্টি করতে পারে— এই সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না। একইসঙ্গে ওই মন্তব্যের মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, সে সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়।
নির্বাচন পর্বে ডিজে বাজানো নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার আদালতের নির্দেশে তাঁর ভয়েস স্যাম্পেল সংগ্রহের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

,



















