রাজ্য -;কয়লা থেকে বালি, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার ধান সংগ্রহ ও পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড়সড় গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর রিপোর্টে ধান রাইস মিলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত গাড়ির তথ্য নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি নথিতে যে গাড়িগুলির মাধ্যমে ধান পরিবহণের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্স, যাত্রীবাহী অটো, বাস এমনকি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্যও পাওয়া গিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
CAG-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯টি সন্দেহভাজন গাড়ির মাধ্যমে মোট ৪,২১১.৮৯ কুইন্টাল ধান পরিবহণ করা হয়েছে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেই গাড়িগুলির পরিচয় খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক অস্বাভাবিক তথ্য সামনে এসেছে। নথিতে কয়েকটি গাড়িকে অ্যাম্বুল্যান্স এবং কয়েকটিকে যাত্রীবাহী অটো হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি কোথাও বাস এবং বিলাসবহুল SUV ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দুটি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে ১,৭৬৪.৬১ কুইন্টাল ধান এবং ছয়টি যাত্রীবাহী অটোর মাধ্যমে ১,১৫৯.০৩ কুইন্টাল ধান পরিবহণের তথ্য রয়েছে। আরও নয়টি গাড়ির ক্ষেত্রে কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বরই পাওয়া যায়নি বলে CAG-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধান বিক্রির রেকর্ডের পাশাপাশি যে গাড়ির মাধ্যমে ধান রাইস মিলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নথিভুক্ত করার কথা। কিন্তু CAG-এর তদন্তে সেই নথিতে একাধিক ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কোথাও অ্যাম্বুল্যান্স, কোথাও অটো বা বাস এবং কোথাও বিলাসবহুল SUV-কে ধান পরিবহণের গাড়ি হিসেবে দেখানোর তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু গাড়ির তথ্য নিয়েই নয়, আদৌ ওই বিপুল পরিমাণ ধান পরিবহণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও CAG-এর রিপোর্টে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি ধান পরিবহণ না করেই সরকারি অর্থের অপচয় বা অর্থ তছরুপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিপুল আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে রাইস মিল মালিক, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সহযোগীদের নাম ব্যবহার করেও ধান কেনার ঘটনা ঘটতে পারে। এই অভিযোগগুলি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।




















