কলকাতা – কলকাতা শহরের হোর্ডিং থেকে পুরসভার আয় বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, কলকাতার মাত্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার হোর্ডিং থেকেই বছরে প্রায় ১৭ কোটি টাকা আয় হতে পারে। অথচ আগের সরকারের সময়ে গোটা কলকাতা শহরের হোর্ডিং থেকে পুরসভার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
কলকাতার একটি বণিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কলকাতা পুরসভা প্রতি বছর হোর্ডিং থেকে প্রায় ২৭ কোটি টাকা আয় করত, যদিও সম্ভাব্য আয় বা প্রজেক্টেড রেভিনিউ ধরা হয়েছিল প্রায় ৩১ কোটি টাকা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিজ্ঞাপন ও হোর্ডিং ব্যবস্থাপনা থেকে পুরসভার রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনার বিষয়টিও।
হোর্ডিং সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আগের সরকারের সময়েও একাধিকবার সরব হয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনও উত্তর পাননি। ২০২৬ সালে সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতার হোর্ডিং ব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে ভুবনেশ্বরের কথা তুলে ধরে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, কলকাতার তুলনায় আয়তন ও পরিকাঠামোর বিচারে ভুবনেশ্বর অনেক ছোট হলেও সেখানে হোর্ডিং থেকে বছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকা আয় হয়। তাঁর কথায়, কলকাতার মধ্যে আরও একাধিক ভুবনেশ্বরের সমান জায়গা থাকলেও সেই সম্ভাবনাকে এতদিন কাজে লাগানো হয়নি।
শমীক ভট্টাচার্যের আরও অভিযোগ, ইএম বাইপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় থাকা হোর্ডিং থেকে যে রাজস্ব পাওয়ার কথা, তার সম্পূর্ণ অর্থ পুরসভাগুলির কোষাগারে পৌঁছয়নি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কলকাতার মাত্র তিনটি রাস্তার হোর্ডিং ব্যবস্থাপনার জন্য মুম্বইয়ের একটি সংস্থা ১৭ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন পরিকাঠামো তৈরি হওয়ার পর ওই সংস্থা কলকাতা পুরসভাকে বছরে ১৭ কোটি টাকা দেবে বলে দাবি তাঁর।
তাঁর বক্তব্য, মাত্র তিনটি রাস্তা থেকেই যখন ১৭ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন এতদিন গোটা কলকাতা শহর থেকে মাত্র ২৭ কোটি টাকা আয় কীভাবে হত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কলকাতা পুরসভার রাজস্ব বাড়াতে হোর্ডিং ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলেই দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।




















