পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনিজুয়েলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা; জারি সুনামি সতর্কতা

পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনিজুয়েলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা; জারি সুনামি সতর্কতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



আন্তরজাতিক – কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনিজুয়েলা। রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের একাধিক এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভবন ধসে পড়ার খবর মিলেছে এবং বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতাও জারি করেছে।

ভূমিকম্পের অন্যতম প্রধান কম্পনটির মাত্রা ছিল ৭.৫। ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরোন অঞ্চলের পশ্চিমে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ কিলোমিটার এবং পরবর্তী কম্পনের গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে জানা গিয়েছে। তীব্র কম্পনের জেরে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় নেমে আসেন।

শুধু ভেনিজুয়েলাই নয়, ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী অঞ্চলগুলিতেও। প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রাজিলের আমাজনাস প্রদেশের কয়েকটি এলাকাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বহু মানুষকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে একই দিনে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ভূমিকম্পের খবর মিলেছে। জাপানের নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় ভোরের দিকে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৬৪ কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই ভূকম্পনগুলি গত এক শতাব্দীর মধ্যে সংঘটিত সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনগুলির অন্যতম হতে পারে।

দুর্যোগের পর ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানালেও দীর্ঘ সময় সরকারি স্তরে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবাগুলিকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

ভূমিকম্প সংক্রান্ত প্রাথমিক বিশ্লেষণে আশঙ্কার চিত্রও উঠে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মডেলভিত্তিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে উদ্ধারকাজ ও সরকারি মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হওয়ার পর।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top