রাজ্য – ফের এক তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারি ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যে। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে মঙ্গলবার রাত থেকে তুমুল জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহল এবং সমাজমাধ্যমে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এই নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
তবে বুধবার ভোর পর্যন্ত এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
একাধিক সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। কেউ দাবি করেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। আবার কারও বক্তব্য, সিআইডি এই পদক্ষেপ করেছে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে তাঁকে ভবানীভবনে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত তথ্যের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং একাধিক মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি ‘পাপ বিদায়’ মন্তব্য করে একটি পোস্ট করেন। এরপর বিজেপির প্রাক্তন নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে প্রশ্নচিহ্ন-সহ পোস্ট করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন বিজেপি নেতাও দেবরাজের গ্রেপ্তারির দাবি করেছেন।
দেবরাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে অতীতেও একাধিকবার সরব হয়েছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তোলাবাজি, বিরোধীদের উপর হামলা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাঁর নাম সামনে এনেছিল বিরোধী শিবির। ফলে এবার তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জল্পনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করেও প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। দক্ষিণ দমদম পুরসভাকেও এই মামলায় ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
আর জি কর মামলা থেকে শুরু করে বেআইনি কার্যকলাপ, পশুহত্যায় বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক অভিযান— একের পর এক ইস্যুতে সক্রিয় হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই আবহেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে এই জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।



















