দেশ – পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক ছবিটা একেবারে বদলে গিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে সরিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই আবহেই বড় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা-তে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হবে।
বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি—এই সব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সরকার গঠনের পরপরই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। সংসারের আর্থিক চাপ কমাতে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন, ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ মোতায়েন এবং সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে মহিলাদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুযোগসমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
যুব সমাজের জন্যও বড় ঘোষণা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন চাকরি এবং স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার বিষয়টিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার পাশাপাশি বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ এবং স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট-এর মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ‘বন্দে মাতরম’ জাদুঘর নির্মাণ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নতুন আইন আনার কথাও বলা হয়েছে।
কৃষক ও জেলেদের জন্যও একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। ধান, আলু ও আম চাষে সহায়তা এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা-র অধীনে জেলেদের জন্য সহজ রেজিস্ট্রেশন এবং পশ্চিমবঙ্গকে একটি প্রধান মাছ রফতানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিজেপি সরকার গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নতুন প্রকল্প ও নীতির বাস্তবায়ন হতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।




















