রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। জানা গিয়েছে, তিনি পরিষদীয় দলের বৈঠকে যোগ দেবেন, আর সেই বৈঠকেই বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে। এরপরই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে এবং রাজ্যপালের কাছে দাবি জানানো হবে।
একুশের নির্বাচনে বিজেপির স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু ছাব্বিশে সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে পদ্ম শিবির। তৃণমূলকে কার্যত এক ইঞ্চি জমিও না ছেড়ে শক্তিশালী ফলাফল করেছে বিজেপি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিজেপির এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁকেই দেখা হচ্ছে। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেই জয় পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে হারিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। দলের কর্মীদের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতা তৈরি করা এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করা সম্ভব—এই বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে—তিনি আদি বিজেপি নেতা নন এবং আরএসএসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কও নেই। যদিও বর্তমানে বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে চমক দেওয়ার পথেই হাঁটছে। যেমন মোহন যাদব, ভজনলাল শর্মা, মোহনচরণ মাঝি কিংবা বিষ্ণুদেব সাই—এঁরা প্রত্যেকেই তুলনামূলকভাবে লো-প্রোফাইল নেতা হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে এখন নজর পরিষদীয় দলের বৈঠকের দিকে। সেখানেই নির্ধারিত হবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।




















