উত্তর চব্বিশ পরগনা – বনগাঁ শহরের একটি জনবহুল বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা শৌচাগার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল পরিচালিত বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারকে প্রকাশ্যেই ভর্ৎসনা করলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। অভিযোগ, কয়েকজন ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে বহু বছরের পুরনো শৌচাগারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাজারে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী প্রতিদিন কাজ করেন। পাশাপাশি অসংখ্য ক্রেতারও যাতায়াত রয়েছে। অথচ বিকল্প কোনও শৌচাগারের ব্যবস্থা না করেই পুরনো শৌচালয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর মন্ত্রীকে ফোন করে অভিযোগ জানান ব্যবসায়ীরা।
রবিবার সকালে বনগাঁর বিচুলিহাতা এলাকায় পুরসভা বুলডোজার দিয়ে একটি শৌচাগার এবং ময়লা ফেলার ভ্যাট ভেঙে ফেলে। পুরসভার দাবি, ওই নির্মাণগুলির কারণে এলাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আসা কমে গিয়েছিল। এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে শৌচাগার ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে মোট পাঁচটি নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করেন, কার নির্দেশে এই ভাঙার কাজ করা হয়েছে এবং এতদিন ধরে শৌচাগারটি থাকলেও এখন হঠাৎ কেন তা ভেঙে ফেলা হল। মন্ত্রীর বক্তব্য, কোনও অবৈধ নির্মাণ ভাঙার আগে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রীকে জানানো প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই শৌচাগারটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং ব্যক্তিগত বা বিশেষ কোনও স্বার্থে তা ভেঙে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
অশোক কীর্তনীয়া স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ব্যবসায়ীরা যে স্থান নির্ধারণ করবেন, সেখানে দ্রুত নতুন শৌচাগার নির্মাণ করতে হবে পুরসভাকে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনওভাবেই তাঁদের মৌলিক প্রয়োজনকে উপেক্ষা করা যাবে না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁর ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এখন পুরসভা নতুন শৌচাগার নির্মাণের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।




















