জুলাই থেকে রাজ্যে স্মার্ট মিটার প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, পরিষেবার আওতায় আসবেন প্রায় ২ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক

জুলাই থেকে রাজ্যে স্মার্ট মিটার প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, পরিষেবার আওতায় আসবেন প্রায় ২ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য -পশ্চিমবঙ্গে আগামী জুলাই মাস থেকে স্মার্ট মিটার প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হতে চলেছে। এই পর্যায়ে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহককে ধাপে ধাপে এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনোহর লাল। রাজ্য সফরে এসে বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের একটি পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে সরকারি অফিস, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বড় ক্যাম্পাসগুলিতে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। এরপর বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বড় গ্রাহকদের এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে। সবশেষে সাধারণ গৃহস্থদের বাড়িতেও ধাপে ধাপে স্মার্ট মিটার স্থাপন করা হবে।

স্মার্ট মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী প্রিপেইড অথবা পোস্টপেইড ব্যবস্থা বেছে নিতে পারবেন। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে টাকা রিচার্জ করা অথবা ব্যবহার শেষে বিল পরিশোধ—দুটি বিকল্পই খোলা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি স্মার্ট মিটারের জন্য ৯০০ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হবে। তবে মিটার স্থাপনের খরচ বাবদ গ্রাহকদের মাসিক আনুমানিক ১০০ টাকা বহন করতে হতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, স্মার্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত ভুল কমবে, বিদ্যুতের অপচয় নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং গ্রাহকেরা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ পরিবহণ ও বণ্টনজনিত ক্ষতির হার প্রায় ১২ শতাংশ। এই ক্ষতি কমানোই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি সমন্বিত সম্পদ বণ্টন পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের সংশোধিত মাশুল কাঠামো এবং বকেয়া আদায়ের বিষয়েও কাজ চলছে। মন্ত্রীর দাবি, ভর্তুকি ও বকেয়া বাবদ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হবে। এছাড়া গত কয়েক বছরে জমে থাকা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মেট্রো প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্র এবং ১৫ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ করা হবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের মাধ্যমে। সাধারণত ২৫ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার শহরগুলির জন্য মেট্রো প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়।

নগরোন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ‘আর্বান চ্যালেঞ্জ ফান্ড’-এর মাধ্যমে শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা করে দেবে, আর বাকি অর্থ আসবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে।

শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী এক বছরের মধ্যে পুরনো ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলির বর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই কাজে কেন্দ্রীয় সরকার ৫৫০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

এছাড়া ‘ক্লিন হিমালয়ান সিটিস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ১৩টি হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি এবং মিরিক এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি রাজ্যের শৌচাগার পরিকাঠামোর বর্তমান অবস্থা ও ঘাটতি মূল্যায়নের জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে একটি বৃহৎ সমীক্ষা পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top