অবৈধ নির্মাণে ফ্ল্যাট কিনলে মিলবে না অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের

অবৈধ নির্মাণে ফ্ল্যাট কিনলে মিলবে না অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা – অবৈধ নির্মাণে ফ্ল্যাট কিনে নেওয়ার পর ক্রেতারা অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা দাবি করতে পারবেন না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। হাওড়া পুরসভা এলাকার একটি বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেছে আদালত। রবিবার ছুটির দিনেও বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও ফ্ল্যাট ক্রেতার আইনি অধিকার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিক্রেতা বা মালিকের অধিকারের চেয়ে বেশি হতে পারে না। ফলে অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ফ্ল্যাট ক্রয় করলেও সেই নির্মাণের বৈধতা নিয়ে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই।

মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একটি বহুতল ভবন পুরসভার অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি আদালতে পৌঁছালে হাই কোর্ট পুরসভাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে উঠে আসে, ভবনটির জন্য তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে চারতলা নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত একটি তলা বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এরপর আদালত ওই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। প্রথমে বাড়ির মালিককে নিজে থেকে বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর না হওয়ায় পুরসভা নিজেই ভাঙার কাজ শুরু করে। তবে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন মোড় আসে ঘটনায়।

গত বছর মৌসুমী রায় ও তাঁর পরিবার ভবনের চারতলার ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেন এবং নভেম্বর মাসে রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, ফ্ল্যাট কেনার পর পুরসভা পুনরায় ভাঙার উদ্যোগ নিলেও আগে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। তাঁদের বক্তব্য না শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তোলা হয়।

তবে হাই কোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, পরে সম্পত্তি কিনলেও তাতে জমির উপর স্বতন্ত্র আইনি অধিকার সৃষ্টি হয় না। মূল আইনি অধিকার জমির মালিকের কাছেই থাকে। পাশাপাশি স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। বিচারপতিদের মতে, প্রতিটি প্রশাসনিক বা সরকারি সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত শুনানি করানো বাধ্যতামূলক নয়। কোনও পক্ষের বক্তব্য শুনলে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত, এমন প্রমাণ দেখাতে না পারলে সেই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

শেষ পর্যন্ত মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দেয় বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়ে দেয়, পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ভবনের অবৈধ চারতলা ভেঙে ফেলার কাজ পুরসভা চালিয়ে যেতে পারবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top