দক্ষিণ 24 পরগণা – ভাঙড়ের রাজনীতিতে আবারও নিজের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করলেন নওশাদ সিদ্দিকি। পাঁচ বছর বিধায়ক থাকার পরেও অন্য অনেক নেতার মতো তাঁর সম্পত্তি বাড়েনি, বরং শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বেড়েছে মামলার সংখ্যা। বিধানসভায় সক্রিয় উপস্থিতি এবং এলাকার উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়াই তাঁকে আলাদা করেছে। সেই কারণেই ২০২৬-এর নির্বাচনেও ভাঙড়বাসী ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেন তাঁকে এবং নিজের গড় ধরে রাখতে সফল হলেন আইএসএফ নেতা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভাঙড় বরাবরই রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১ সালের সবুজ ঝড়ের মাঝেও এই একটি আসন হাতছাড়া হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস-এর। সেই সময় রাজনীতিতে নতুন মুখ হিসেবেই উঠে এসে শাসকদলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন নওশাদ। এবারের নির্বাচনেও তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে ভাঙড় তাঁর দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট-এর দখলেই থাকবে।
গণনার শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে, ততই পাল্টেছে চিত্র। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা-কে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রাখেন নওশাদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শওকতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ভাবমূর্তিই তাঁর পরাজয়ের অন্যতম কারণ। এলাকায় অশান্তির অভিযোগ এবং ভাইরাল হওয়া ‘মাছ চোর’ গান তাঁর বিরুদ্ধে জনমতকে প্রভাবিত করেছে।
ভাঙড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসও বেশ রঙিন। একসময় সিপিএমের দখলে থাকা এই আসন ২০০৬ সালে দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। পরে আবার পালাবদল হয়েছে একাধিকবার। ২০২১ সালে সেই ধারার বাইরে গিয়ে ভাঙড়বাসী ভরসা রেখেছিল ‘ঘরের ছেলে’ নওশাদের উপর, আর ২০২৬-এও সেই বিশ্বাস অটুট থাকল।
এই নির্বাচনে ভাঙড়ের মূল ইস্যু ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব। এই বিষয়গুলোকেই সামনে রেখে প্রচার চালান নওশাদ। অন্যদিকে তৃণমূল ভাঙড় পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করেছিল। প্রথমদিকে এগিয়েও ছিলেন তিনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলে যায় এবং জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে এগিয়ে যান নওশাদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় গেরুয়া উত্থানের মাঝেও সংখ্যালঘু ভোটাররা বিজেপির দিকে ঝুঁকতে না পারলেও শওকতের উপর আস্থা রাখতে পারেননি। সেই কারণেই শেষ হাসি হাসলেন নওশাদ সিদ্দিকি। শুধু ভাঙড় নয়, মিনাখাঁ আসনেও জয় পেয়েছে আইএসএফ, যা এই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।




















