রাজ্য – রাজ্য রাজনীতিতে এবার ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি কোনও ছোটখাটো ঘটনা নয়, বরং রাজ্য তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির রূপ নিতে পারে। পুরো বিষয়টির তদন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি, সমস্ত নথি ও তথ্যপ্রমাণ নিয়মিত পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ‘লাইসেন্স টু অপারেট’ বা স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদিত কোনও নথির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ থেকেও কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের ভিত্তিতেই এই স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো চালানো হয়েছে।
তদন্তে একটি চার পাতার ডিউটি রোস্টার পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ওই তালিকায় কয়েকজন সরকারি চিকিৎসক এবং অধ্যক্ষের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁদের একাংশ এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, পিসিপিএনডিটি আইন এবং পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত নিয়ম না মেনে ইউএসজি ও এক্স-রে মেশিন বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, নার্সিংহোমগুলিকে চাপ দিয়ে রোগীদের নির্দিষ্ট জায়গায় রক্ত পরীক্ষা করানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এছাড়াও তাঁর দাবি, এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই আয়ুষ বিভাগের পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। চিকিৎসার নথিতে চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পরিবর্তে অস্পষ্ট লেখা ও কাটাকাটির অভিযোগও করেছেন তিনি। ভুল চিকিৎসার কারণে বহু মানুষের শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।




















