উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে ফের উত্তাল রাজধানী, সেঙ্গারের জামিনের প্রতিবাদে ধর্না থেকে গভীর রাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ নির্যাতিতার

উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে ফের উত্তাল রাজধানী, সেঙ্গারের জামিনের প্রতিবাদে ধর্না থেকে গভীর রাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ নির্যাতিতার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লি – উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। সাজাপ্রাপ্ত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে শর্তসাপেক্ষ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দিল্লি গেটের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে দিল্লি পুলিশ টেনে হিঁচড়ে তাঁদের ধর্নাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার রাত থেকে দিল্লি গেট এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা, তাঁর মা এবং সমাজকর্মী যোগিতা ভায়ানা। দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক জামিনের সিদ্ধান্তে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে নামেন বলে দাবি। নির্যাতিতার অভিযোগ, কোনও রকম আলোচনায় না গিয়েই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং জোর করে তাঁদের সেখান থেকে তুলে দেয়।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতা জানান, এই রায় তাঁর মনে গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্ত শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং চরম হতাশার মুহূর্তে আত্মহত্যার কথাও মাথায় এসেছিল। তবে পরিবারের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নেন। তাঁর প্রশ্ন, একজন ধর্ষণ অভিযুক্ত যদি বাইরে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ান, তাহলে নির্যাতিতারা কীভাবে নিরাপদ থাকবেন।
নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই কুলদীপ সেঙ্গারকে জামিন দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সুবিধা হয়। তাঁর দাবি, এই জামিন আদতে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কুলদীপ সেঙ্গারকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি নির্যাতিতার বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে কোনও ধরনের হুমকি দিতে পারবেন না। তবে নির্যাতিতার আইনজীবীদের বক্তব্য, একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে বাইরে রাখা নিজেই আতঙ্কের কারণ।
উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডের সূত্রপাত ২০১৭ সালে। উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় এক নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতা কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলাটি উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। পরে তাঁকে বিজেপি দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির শর্তসাপেক্ষ জামিন এবং তার প্রতিবাদে বসা নির্যাতিতাকে পুলিশি বলপ্রয়োগে সরানোর অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও ভুক্তভোগীদের অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার আইনি লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top