মমতার ধর্না নিয়ে বিজেপির কটাক্ষ, ‘কুম্ভীরাশ্রুতে কোনও প্রভাব পড়বে না’ বললেন শমীক ভট্টাচার্য

মমতার ধর্না নিয়ে বিজেপির কটাক্ষ, ‘কুম্ভীরাশ্রুতে কোনও প্রভাব পড়বে না’ বললেন শমীক ভট্টাচার্য

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চলতে থাকা West Bengal SIR নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ইতিমধ্যেই Mamata Banerjee সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন। আগামী West Bengal Assembly Elections 2026-এর আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে কালীঘাট শিবির। সেই ইস্যুকে আরও জোরদার করতে ৬ তারিখ থেকে ধর্নায় বসার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই প্রেক্ষিতে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি Shamik Bhattacharya স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ধর্না কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের বিশেষ কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর কথায়, “এই কুম্ভীরাশ্রুতে কোনও প্রভাব পড়বে না।” শমীক দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ও মৃত ভোটারের নাম বাদ পড়তেই তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, এতদিন যে জায়গাটিকে তারা ভরসা হিসেবে দেখত, এখন সেটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে। সেই কারণেই শাসকদলের অস্থিরতা বাড়ছে।
শমীকের মতে, এই ধর্না কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ তৈরি করা। তিনি অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজেপির বিশ্বাস, কমিশন এবং বিচারব্যবস্থা এই ধরনের চাপের বাইরে থেকেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
এদিন শমীক পাল্টা দাবি করেন, বিজেপির তরফে জমা দেওয়া বহু ফর্ম-সেভেন নাকি ‘তৃণমূলের পেটোয়া’ সরকারি কর্মচারীরা নষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং ওই সব আবেদনের পূর্ণাঙ্গ শুনানির ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে কার্যত সতর্কবার্তার সুরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে সরকারি কর্মীদের সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে হবে, তাই তাঁদের বুঝে-শুনে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার পাল্টা রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার লক্ষ্যেই বিজেপি এই কৌশল নিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য বোঝাতে চান, এই আন্দোলন কোনও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক বিপদ সামলাতেই শাসকদল এতটা সক্রিয় হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটার মৃত, অন্য রাজ্যে চলে গেছেন অথবা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র কারণে এখনও ঝুলে রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, যে জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা বেশি, সেখানেই এই অসঙ্গতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিজেপির অভিযোগ, আগে বাদ পড়া এই ৫৮ লক্ষ ভোটারের একটি বড় অংশের সুবিধা অতীতের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের দিন এই ভোটের কিছু অংশ ইভিএমে ঢেলে দেওয়া হত। এবার সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাসকদলের উদ্বেগ বেড়েছে। বিজেপির আশঙ্কা, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে আরও অন্তত ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে, যা তৃণমূলের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশেও এদিন বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সঙ্গে তুলনাও টানেন তিনি। শমীকের অভিযোগ, কিছু বিধানসভা এলাকাকে কার্যত ‘মুক্তাঞ্চল’-এ পরিণত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সিতাই, শীতলখুচি এবং ডায়মন্ড হারবারের নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই এলাকাগুলিতে বিরোধী দলকে আটকে রাখার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে।
সবশেষে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার সম্পূর্ণ অবাধ ও নির্ভীক ভোট হয়েছিল ২০১১ সালে। তবে এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন তার থেকেও বেশি স্বচ্ছ ও অবাধ হবে বলে তাঁদের আশা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top