দিল্লি – পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে চলা বিতর্ক এবার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্ট-এ। অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ফর্ম-৬ ব্যবহার করে বহু নতুন ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ইস্যুতে আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস, তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া তারা এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত শুরু করবে না।
সোমবার এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ফর্ম-৬ ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তে প্রায় ৫ থেকে ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এই দাবি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া আদালত এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামতে পারে না। তিনি জানান, যদি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়, তখন আদালত তা বিবেচনা করবে। আইনজীবীও স্বীকার করেন, তাঁর কাছে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য নেই এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে আদালত এই বিষয়ে আর এগোতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, ফর্ম-৬ নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ জানান, বিপুল সংখ্যায় ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী যে কেউ একাধিক আবেদন জমা দিতে পারেন এবং প্রতিটি আবেদন যাচাই করেই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার। যদিও ঠিক কত নতুন নাম যোগ হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য দেয়নি কমিশন। এই SIR সংক্রান্ত বিষয়ে আগেও একাধিকবার আদালতে মামলা হয়েছে। তখন শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আদালত নির্দেশ দেয়, বিতর্কিত তথ্যগুলি খতিয়ে দেখবেন কলকাতা হাই কোর্ট-এর নিযুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের কাজে সহায়তা করবেন রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা।




















