রাজ্য – সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে না পারার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বাংলায় এসে তৃণমূল ও কংগ্রেসের ওপর দায় চাপিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। শুধু তাই নয়, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময়েও তিনি বিরোধীদের নিশানা করেছেন বলে অভিযোগ। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই দাবি বিরোধী শিবিরের।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ১৫২টি আসনের দিকে নজর দিলেই এই বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে। জনসভা, সংসদ ও ভাষণে নারী ক্ষমতায়নের কথা বললেও বিজেপির প্রার্থী তালিকায় মহিলা প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। প্রথম দফায় তৃণমূল যেখানে ২৪ জন মহিলা প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে বিজেপির মহিলা প্রার্থী মাত্র ১৫ জন।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা West Bengal Election Watch প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ও হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, বিজেপির ক্ষেত্রে মহিলা প্রার্থীর হার প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস—প্রত্যেক দলেরই মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা গেরুয়া শিবিরের তুলনায় বেশি।
এই ইস্যুতে বিরোধীরাও সরব। Priyanka Gandhi থেকে শুরু করে Mamata Banerjee—সকলেই প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল এতদিন কার্যকর করা হয়নি কেন। তাঁদের দাবি, সব বিরোধী দলই এই বিলকে সমর্থন করেছিল।
পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা ও রাজ্যসভা—মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রথম দফায় শাসক দলের ১৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনই মহিলা, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ১৬। এই নিরিখে সিপিআই(এমএল)-এর মতো ছোট দলও এগিয়ে, যেখানে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই মহিলা।
সব মিলিয়ে, নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তব প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যে ফারাক নিয়েই এখন জোরালো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সংসদে বিল কার্যকর না হওয়ার দায় এড়িয়ে যেতে বিজেপি এই ইস্যুতে অন্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।



















