রাজ্য – নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে Election Commission of India। অভিযোগ উঠেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের টার্গেট করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ভোট দিতে যাওয়া মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এবার থেকে ভোটারদের পরিচয় দু’দফায় যাচাই করা হবে। প্রথম ধাপে পোলিং বুথে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বুথস্তরের আধিকারিক (বিএলও) ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। এই দুই স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া পেরোলেই তবেই ভোট দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট দিতে গেলে নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে অন্তত একটি মূল কপি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। প্রথম ধাপে সেই পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তারপর দ্বিতীয় ধাপে বিএলও যাচাই করবেন, প্রকৃত ভোটারই ভোট দিতে এসেছেন কি না। এই পুরো প্রক্রিয়াকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ‘হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর আগে উত্তরপ্রদেশে লোকসভা নির্বাচনের সময় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় একই ধরনের ‘ডাবল চেকিং’-এর অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, পূর্বঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী পোলিং বুথের ১০০ মিটারের বাইরে থাকবেন বিএলও। ওই ১০০ মিটারের ভেতরে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ ও ভোটাররা। সেই সীমা চিহ্নিত করতে সাদা রং বা চুন দিয়ে দাগ কাটার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে এই দুই স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত রাখার দাবি তুললেও, বাস্তবে তা ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি না, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।



















