রাজ্য – ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে বাংলায়। বীরভূমের মুরারইয়ের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে তীব্র কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওঁর? কত নাটক!”—এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে প্রচারে গিয়ে ঝালমুড়ি খেতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে পকেট থেকে ১০ টাকার নোট দিয়ে দাম মেটাচ্ছেন তিনি। এই ঘটনাকেই ‘নাটক’ বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল এবং আগেভাগেই সেখানে ক্যামেরা বসানো ছিল। এমনকি তাঁর দাবি, ঝালমুড়িটি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছিল।
মমতা আরও বলেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ধরনের ইমেজ তৈরির চেষ্টা করা হয়—কখনও গুহায় ধ্যান, কখনও ‘চা-ওয়ালা’ পরিচয়—সবই ভোটের কৌশলের অংশ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ দেখানোর এই প্রচার আসলে রাজনৈতিক নাটক বলেই দাবি করেন তিনি।
এই সভা থেকেই নির্বাচন কমিশন-কেও নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা চলছে এবং সেই সংক্রান্ত তালিকাও তাঁর কাছে রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কমিশনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে তিনি আসন্ন ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করা গেছে, এবার লক্ষ্য ২০২৬ সালের বাংলার নির্বাচন এবং ভবিষ্যতে দিল্লির ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে সরানো।
ভোটের দিন ও গণনার সময় সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি। কর্মীদের বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুথে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে আগে থেকেই খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে, যাতে ভোট ও গণনার দিনে কোনও সমস্যা না হয়।
এদিনের সভা থেকে উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দ্বারকা নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের ঘোষণা করেন তিনি। প্রায় ৫৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ নির্বাচন পরবর্তী সময়েই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।




















