রাজ্য – ভোটের আগে যাতে কোনও ঝামেলা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ভোটের ঠিক তিন দিন আগে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশদের তাঁদের কাজের জায়গা থেকে সরিয়ে রিজার্ভ পুলিশ লাইনে পাঠাতে হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য, ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখা।
কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সব পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের তিন দিন আগে থেকেই এই বাহিনীগুলিকে আর মাঠ পর্যায়ের কাজে রাখা যাবে না। অর্থাৎ, নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁদের কোনও সক্রিয় দায়িত্বে দেখা যাবে না।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের কোনওভাবেই নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রশাসনিক অন্যান্য কাজে তাঁদের ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের যুক্তি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রভাব এড়ানো জরুরি, তাই আগেভাগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই কর্মীরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই বিষয়ে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশ—সবাই ভোট দিতে পারবেন, তবে ইউনিফর্ম পরে নয়। সাধারণ পোশাকে অন্য ভোটারদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।
এর পাশাপাশি, ভোটের আগে প্রশাসনে বড়সড় রদবদল নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকজন শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের আপাতত নির্বাচনের কোনও কাজে যুক্ত করা যাবে না।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।




















