রাজ্য – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে দ্রুত। ২০৭টি আসন পেয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে Bharatiya Janata Party। আর তার পর থেকেই All India Trinamool Congress ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে নেতা থেকে কর্মীদের মধ্যে। নীচুতলার কর্মীরাও দ্রুত শিবির বদল করছেন। তবে এই পরিস্থিতিকেই সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে গেরুয়া শিবির।
কারণ হিসেবে সামনে আসছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১১ সালে যখন তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘ ৩৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে, তখনও বহু Communist Party of India (Marxist) কর্মী-সমর্থক দল বদলে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পরবর্তীতে সেই দলবদলই তৃণমূলের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জেলা জেলায় হিংসা, বিরোধীদের উপর হামলা ও ভাঙচুরের মতো অভিযোগ উঠে আসে সেই সময় থেকেই।
এই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার শুরুতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। ‘বেনোজল’ আটকাতে আপাতত সব ধরনের যোগদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি Samik Bhattacharya স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য কোনও দল থেকে এখন কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন, তাঁরা রাতারাতি দল বদলে আবার সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করবেন—এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া যাবে না।
একই সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ Sukanta Majumdar-র গলাতেও। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কাউকে দলে নেওয়া হবে কি না, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আপাতত পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সব ধরনের যোগদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের কাছেও এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকার গঠনের আবহে দলীয় শুদ্ধিকরণের এই কৌশল রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



















