বঙ্গ জয়ে বিজেপির ‘ছয় সেনাপতি’, ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যের কাহিনি

বঙ্গ জয়ে বিজেপির ‘ছয় সেনাপতি’, ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যের কাহিনি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ জয় করে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস-এর শাসনকে সরিয়ে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর হাতে গড়া এই সংগঠন। এই সাফল্যের পিছনে একাধিক নেতার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কাজ করেছে, যাঁদের অনেকেই সামনে থেকে আবার কেউ নেপথ্যে থেকে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন।
এই জয়ের প্রধান মুখ ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। টানা প্রায় ৫০ দিন তিনি বাংলায় প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন। প্রতিটি জনসভায় ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা কড়া করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুরু থেকেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে বিজেপি নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে জয় নিশ্চিত করেই লড়াই করছে।
অমিত শাহের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নির্বাচনী প্রচারের কৌশল নির্ধারণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় তৈরি—সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করতে বড় ভূমিকা পালন করেন ভূপেন্দ্র যাদব। বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সুসংহত করা এবং নির্বাচনী আইনি জটিলতা সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা দলকে বড় সুবিধা দেয়। অন্যান্য রাজ্যে কাজের অভিজ্ঞতাও বাংলার মাটিতে কাজে লেগেছে।
অন্যদিকে, সুনীল বনসাল ছিলেন নেপথ্যের অন্যতম কৌশলবিদ। তিনি বুথ স্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে বিজেপির সংগঠনকে আরও কার্যকর করে তোলেন। তৃণমূলের ক্যাডারভিত্তিক শক্তির মোকাবিলায় একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে সাংস্কৃতিকভাবে মিল রয়েছে এমন এলাকায় প্রচারে জোর দেন। স্থানীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং আক্রমণাত্মক প্রচার কৌশল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
ডিজিটাল প্রচারে বড় ভূমিকা নেন অমিত মালব্য। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে বিভিন্ন ইস্যুতে জনমত গড়ে তোলা এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপির আইটি সেল কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এর ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বিজেপি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
সব মিলিয়ে, এই ছয় নেতার সমন্বিত পরিকল্পনা, কৌশল এবং সংগঠনের শক্তির ফলেই বাংলার মতো কঠিন রাজনৈতিক জমিতে বিজেপি এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top