রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ভোটগণনার শুরু থেকেই। প্রাথমিক ট্রেন্ডে একাধিক আসনে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি শিবিরে শুরু হয় বিজয়োল্লাস, যা দিনের শেষে আরও জোরালো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নন্দীগ্রাম আসন ধরে রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন নিজের রাজনৈতিক শক্তি।
৪ মে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা। এর আগে ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল এবং দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হয়। তবে মোট ২৯৪টি আসনের বদলে এবার ২৯৩টি আসনের ফল ঘোষণা হচ্ছে, কারণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই গেরুয়া শিবিরে দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যায় উদযাপন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা ও শুভেন্দুর সরাসরি লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা এনে দেয়। মাত্র ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিতি পান শুভেন্দু।
২০২৬-এর নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করে দলবদল করে আসা পবিত্র কর-কে, যিনি একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ভোটের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্র। ফলে আবারও তৈরি হয় গুরু-শিষ্যের লড়াইয়ের আবহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরোনো সঙ্গীকেই পরাজিত করে জয় তুলে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।



















