দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – নবান্ন থেকে রাজ্যের জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সমস্ত জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা। গরু পাচার, কয়লা ও বালি পাচার থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট রাজ— সব ধরনের বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই গরু পাচার নিয়ে কড়া অবস্থান নেন। তিনি নির্দেশ দেন, রাজ্যে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত এলাকা হোক বা রাজ্যের বিভিন্ন সড়কপথ— কোথাও যেন এই ধরনের কোনও অভিযোগ সামনে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে।
কয়লা, বালি এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরেই এই সব বেআইনি কারবার নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কয়লা ও বালি পাচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রোমোটারি ব্যবসায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ভয় বা চাপ ছাড়াই ব্যবসা বা বাড়ি তৈরির কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যত্রতত্র সরকারি জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।
বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের লক্ষ্যে কাজ করবে। সচিবদের পর এবার জেলা শাসকদেরও সেই মূলমন্ত্র মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে অবিলম্বে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কাজ বন্ধ রাখারও নির্দেশ রয়েছে।
উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু করার দিকেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকায় রাজ্যের বহু প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজ থমকে ছিল। শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন, নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথের পর জেলা শাসকরা যেন তাঁদের সঙ্গে, পাশাপাশি জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। আটকে থাকা প্রকল্পগুলি দ্রুত চালু করার কথাও বলা হয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, জেলা স্তরের প্রতিটি প্রশাসনিক কাজের উপর সরাসরি নজর রাখবে নবান্ন। উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব যাতে না পড়ে এবং সরকারি অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই হবে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top