সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি, ‘জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি, ‘জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরকে ঘিরে ২০২৬ সাল বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, এ বছর সোমনাথ মন্দিরে প্রথম হামলার এক হাজার বছর পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর মন্দিরের পুনর্নির্মাণেরও ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সোমনাথ মন্দিরকে ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দেন। এরপর তিনি বলেন, ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল স্বাধীন ভারতের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক গৌরব পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামও। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যেভাবে প্যাটেল ৫০০-রও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে আধুনিক ভারতের ভিত গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ বিশ্বকে বার্তা দিয়েছিল যে ভারত কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতাই অর্জন করেনি, বরং নিজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের পথেও এগোতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত ১৯৪৭ সালে রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করলেও ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা স্বাধীন জাতির সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তাঁর মতে, এই মন্দির শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ভারতের আত্মপরিচয় ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক।
এর আগেও চলতি বছরের শুরুতে সোমনাথ সফরে গিয়ে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, স্বাধীনতার পর দেশের শাসকরা নাকি সোমনাথ মন্দিরের প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। মোদীর দাবি ছিল, বহুদিন ধরে মানুষকে শেখানো হয়েছে যে মন্দিরটি শুধুমাত্র লুটের উদ্দেশ্যে ধ্বংস করা হয়েছিল, অথচ এর গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১০২৬ সালে প্রথমবার আক্রমণের মুখে পড়ে সোমনাথ মন্দির। এরপর একাধিকবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের সাক্ষী থেকেছে এই ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র। স্বাধীনতার পরে ১৯৫১ সালে নতুনভাবে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়। সেই সময় দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে ২০০১ সালে পুনর্নির্মাণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী।
চলতি বছরের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ঘিরে তাই আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব— দুটিই বিশেষভাবে সামনে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সোমনাথ মন্দিরকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যেমন সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের বার্তা রয়েছে, তেমনই জাতীয়তাবাদ ও ঐতিহ্যের প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্ত ও অতিথিদের সামনেই মোদী সোমনাথ মন্দিরকে ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক বলে উল্লেখ করেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top