রাজ্য – বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাজ শুরু করল বিজেপি। গত শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন মন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেছিলেন। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর তাঁদের দফতর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পরিচালনায় এই দফতরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী, কল্যাণ ও শিশু সমাজ কল্যাণ দফতরের পাশাপাশি পুর বিষয়ক দফতরের দায়িত্ব। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং শহরাঞ্চলের প্রশাসনিক কাজ— দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম পরিচিত মুখ নিশীথ প্রামাণিককে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী কল্যাণ ও উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। জঙ্গলমহল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে অশোক কীর্তনীয়াকে খাদ্য দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও জনবন্টন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁর অধীনেই থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসী ও মহিলা ভোটব্যাঙ্কের ভারসাম্য বজায় রেখেই নতুন সরকারের এই দফতর বণ্টন করা হয়েছে। সামাজিক ও আঞ্চলিক সমীকরণ মাথায় রেখে পাঁচ হেভিওয়েট বিধায়ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।




















