নদিয়া – কাঁচরাপাড়ায় ভাড়া বাড়ির ভিতর থেকে এক পোস্ট অফিস কর্মীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। বাথরুম থেকে ঘরের ভিতর পর্যন্ত চাপচাপ রক্তের দাগ, আর খাটের নীচে উল্টে পড়ে থাকা নগ্ন দেহ— গোটা ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। মৃতের নাম ঋত্বিক সরকার। তিনি উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের বীরপাড়ার বাসিন্দা এবং কাঁচরাপাড়া পোস্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁচরাপাড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের রজনীবাবু রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ঋত্বিক। সোমবার সকাল পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়েও তিনি অফিসে না পৌঁছনোয় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সহকর্মীরা। তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। ফোন বেজে গেলেও রিসিভ না করায় সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত সহকর্মীরা সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে গিয়ে দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ আরও তীব্র হয়। পরে জানালা দিয়ে ঘরের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
বীজপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলতেই সামনে আসে ভয়াবহ দৃশ্য। বাথরুমের প্যাসেজ থেকে ঘরের মেঝে পর্যন্ত রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিল। খাটের নীচে মাথা গুঁজে উল্টে পড়ে ছিলেন ঋত্বিক সরকার। তাঁর দেহ ছিল নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ঋত্বিক অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। খুব বেশি মেলামেশাও করতেন না কারও সঙ্গে। নিয়মিত অফিস যেতেন এবং রাতে বাড়ি ফিরতেন। এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার কোনও পূর্বাভাস তাঁরা কখনও পাননি। আরেক স্থানীয়ের দাবি, ঘরের ভিতরের দৃশ্য অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল এবং চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকেছিল কি না, অথবা কোনও হামলার চিহ্ন রয়েছে কি না— সবদিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। খুন, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও রহস্য— এখন সেই উত্তরই খুঁজছে তদন্তকারী দল।
কাঁচরাপাড়ার শান্ত এলাকায় এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।




















