বেআইনি মাদ্রাসা ও জাল শংসাপত্রে কড়া হুঁশিয়ারি নতুন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর

বেআইনি মাদ্রাসা ও জাল শংসাপত্রে কড়া হুঁশিয়ারি নতুন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – দায়িত্ব নেওয়ার পরই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। অনুমোদনহীন বা নিয়মভঙ্গ করে চালানো মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। পাশাপাশি জাল জাতিগত শংসাপত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নতুন মন্ত্রী।
রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু সদ্য রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তাঁকে একসঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে— ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স এবং মাদ্রাসা এডুকেশন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কার্যত ‘অ্যাকশন মোডে’ রয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
পেশায় শিক্ষক হওয়ায় এই বিষয়ে তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট। ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, মাদ্রাসা শিক্ষাও রাজ্যের মূল শিক্ষা কাঠামোর অংশ। ফলে কোনও প্রতিষ্ঠান আলাদা নিয়মে চলতে পারে না। যেসব মাদ্রাসা সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের নিয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি দুর্নীতি, অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে, তাহলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিছু অনুমোদনহীন বা নিয়মবহির্ভূতভাবে চলা মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। কোথাও ছাত্রসংখ্যার অমিল, কোথাও নথিপত্রে অসঙ্গতি, আবার কোথাও পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।
শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা নয়, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর নিয়েও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভুয়ো এসটি বা এসসি শংসাপত্র দেখিয়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। জাল শংসাপত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেছেন, ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের মূল লক্ষ্য আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। অন্যদিকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর সংরক্ষিত শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স দপ্তর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তদারকি করে এবং মাদ্রাসা এডুকেশন দপ্তর রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি ও শিক্ষার মান রক্ষার দায়িত্বে থাকে।
সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট— সরকারি সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছতে হবে। ভুয়ো নথি বা বেআইনি চক্রের মাধ্যমে সেই অধিকার দখলের চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষা ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আইন মেনেই চলতে হবে বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top