রাজ্য – চলতি সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের ১৮তম রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। আগামী ১৩ ও ১৪ মে দু’দিন ধরে চলবে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।
গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। এবার তাঁকে বিধায়ক হিসেবেও শপথ নিতে হবে বিধানসভায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দু’টি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এখনও পর্যন্ত কোন আসনটি তিনি রাখবেন এবং কোনটি ছাড়বেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শপথগ্রহণের দিন সেই বিষয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৩ মে বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের মন্ত্রীরা বিধায়ক হিসেবে শপথ নেবেন। একই পর্বে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিধায়করাও শপথগ্রহণ করবেন। এই তালিকায় রয়েছে ১ থেকে ৭৬ নম্বর কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা।
প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শপথ নেবেন নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়করা। ৭৭ থেকে ১৫৭ নম্বর কেন্দ্রের সদস্যদের এই পর্বে ডাকা হয়েছে, যদিও ১৪৪ নম্বর কেন্দ্র এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১৪ মে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শপথ নেবেন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিধায়করা। এই তালিকায় রয়েছে ১৫৮ থেকে ২১৮, ২২০ থেকে ২২২ এবং ২৩৭ নম্বর কেন্দ্রের বিধায়করা।
এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার বিধায়করা দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শপথবাক্য পাঠ করবেন। এই পর্বে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২১৯, ২৩৩ থেকে ২৩৬, ২৩৮ থেকে ২৪০ এবং ২৯৪ নম্বর কেন্দ্র।
বিধানসভা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক বিধায়কের সঙ্গে সর্বাধিক দু’জন সঙ্গী প্রবেশ করতে পারবেন বিধানসভা কক্ষে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা শাসকদেরও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি নবনির্বাচিত বিধায়কের জন্য অস্থায়ী মেম্বার আইডি কার্ড এবং তাঁদের দুই সঙ্গীর জন্য অস্থায়ী অতিথি পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখা হয়। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রবেশ ও শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও নির্বিঘ্ন হবে।




















