অফ বিট – দেশজুড়ে যখন তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, তখন অনেকেই খুঁজছেন এমন কিছু জায়গা যেখানে মিলবে গরমের হাত থেকে সাময়িক মুক্তি। পাহাড়ি হাওয়া, কুয়াশা ঢাকা সকাল, সবুজ উপত্যকা আর মনোরম ঠান্ডা আবহাওয়া— এই সব মিলিয়ে ভারতের একাধিক অফবিট হিল স্টেশন এখন পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে গ্রীষ্মের আদর্শ গন্তব্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ট্রাভেল রিপোর্টেও দেখা যাচ্ছে, ভ্রমণপিপাসুরা এখন ভিড় এড়িয়ে শান্ত ও ঠান্ডা জায়গার দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে অবস্থিত ল্যান্ডৌর যেন এক অন্য জগৎ। ছোট্ট এই পাহাড়ি ক্যান্টনমেন্ট শহর আজও ধরে রেখেছে তার ঔপনিবেশিক সৌন্দর্য। পাইন বন, পুরনো গির্জা, নিরিবিলি রাস্তা আর মেঘে ঢাকা বিকেল— সব মিলিয়ে ল্যান্ডৌর এখন পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। গরমকালেও এখানকার তাপমাত্রা সাধারণত ১৫ থেকে ২৪ ডিগ্রির মধ্যেই থাকে।
হিমাচল প্রদেশের তীর্থান ভ্যালিও এখন ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন আকর্ষণ। মানালির ভিড় এড়িয়ে অনেকেই এখন ছুটছেন এই শান্ত উপত্যকায়। গ্রেট হিমালয়ান ন্যাশনাল পার্কের পাশে অবস্থিত এই জায়গা নদীর ধারের কটেজ, ট্রেকিং আর প্রকৃতির নির্জনতায় ভরপুর। গ্রীষ্মেও এখানে আবহাওয়া থাকে বেশ মনোরম, তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করে ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যে।
অরুণাচল প্রদেশের জিরো ভ্যালিও এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সবুজ পাহাড়, কুয়াশা ঢাকা সকাল আর আপাতানি উপজাতির সংস্কৃতি এই জায়গাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি এখন অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। এখানকার আবহাওয়া গরমকালেও আরামদায়ক, তাপমাত্রা থাকে ১৮ থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যে।
উত্তরাখণ্ডের কৌশানিকেও অনেকে ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ বলে থাকেন। নন্দাদেবী ও ত্রিশূলের মতো হিমালয়ের তুষারঢাকা শৃঙ্গ এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। চা-বাগান, ঠান্ডা হাওয়া এবং শান্ত পরিবেশের জন্য কৌশানি এখন গ্রীষ্মের জনপ্রিয় রিট্রিট স্পট হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ ভারতে উটির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ইয়েরকাউড। তামিলনাড়ুর এই হিল স্টেশন কফি বাগান, লেক আর সবুজ পাহাড়ে ঘেরা। তুলনামূলক কম ভিড় এবং শান্ত পরিবেশের কারণে অনেক পর্যটক এখন ইয়েরকাউডকেই বেছে নিচ্ছেন। গরমকালেও এখানকার তাপমাত্রা থাকে ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যে।
কেরলের ভ্যাগামনও এখন পর্যটকদের নজর কেড়েছে। মুন্নারের বদলে অনেকেই এখন ছুটছেন এই সবুজ পাহাড়ি এলাকায়। ঘাসে ঢাকা পাহাড়, পাইন ফরেস্ট আর মেঘের খেলায় ভ্যাগামন যেন এক স্বপ্নের মতো। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সামার ডেস্টিনেশন হিসেবেও পরিচিত এই জায়গা। এখানকার তাপমাত্রা সাধারণত ১০ থেকে ২০ ডিগ্রির মধ্যে থাকে।
বাংলার দার্জিলিং এখনও গরমের ছুটির অন্যতম সেরা গন্তব্য। কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়, টয় ট্রেন, চা-বাগান আর ঠান্ডা আবহাওয়া— সব মিলিয়ে এই পাহাড়ি শহরের আকর্ষণ আজও অমলিন। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক গরম থেকে বাঁচতে ভিড় জমান দার্জিলিংয়ে।
মেঘালয়ের শিলংও বরাবরই মনোরম আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। বর্ষার আগের সময়টায় এখানকার তাপমাত্রা থাকে ১২ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে। জলপ্রপাত, লেক এবং সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই শহর এখন সামারের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে কেরলের মুন্নারও এখনও পর্যটকদের প্রথম সারির পছন্দ। মেঘে ঢাকা পাহাড়, অসংখ্য টি এস্টেট আর ঠান্ডা বাতাস মিলিয়ে মুন্নার যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গ। গরমের ছুটিতে পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই জায়গা এখনও সমান জনপ্রিয়।



















