রাজ্য – জারি হয়েছিল লুক আউট নোটিশ। অবশেষে গ্রেফতার হলেন কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি Shantanu Sinha Biswas। সিন্ডিকেটকে মদত দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের মুখে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে টানা প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে Enforcement Directorate।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, জেরার সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি শান্তনু। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোনা পাপ্পু মামলায় তাঁর নাম উঠে আসার পর থেকেই তাঁকে নজরে রেখেছিল ইডি।
একাধিকবার তলব করা হলেও এতদিন নানা অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তদন্তকারীদের দাবি, কার্যত গা-ঢাকা দিয়েই ছিলেন তিনি। এমনকি তিনি দেশ ছাড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁর বর্তমান অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে Kolkata Police-এর ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটিকে চিঠি পাঠায় ইডি। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি কোথায় রয়েছেন, বর্তমানে কী দায়িত্ব পালন করছেন এবং কেন তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। এরপরই বৃহস্পতিবার আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন শান্তনু।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের দিনও তাঁকে তলব করেছিল ইডি। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকার কুখ্যাত ব্যবসায়ী Sona Pappu ওরফে সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শান্তনুর নাম উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী Joy Kamdar-কে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তের অগ্রগতিতে গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা সেই অভিযানের সময় অবশ্য প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে।
তল্লাশির পরদিন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তাঁর দুই ছেলে সায়ন্তন ও মণীশকে তলব করেছিল ইডি। তবে কেউই হাজির হননি। এছাড়াও বালি পাচার মামলার তদন্তেও তাঁকে ডাকা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেসময় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছিলেন তিনি।
এবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের গ্রেফতারিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।



















