রাজ্য – বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত হরমোনজনিত সমস্যা Polycystic Ovary Syndrome বা PCOS-এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হল। নতুন নাম রাখা হয়েছে Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome বা PMOS। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো নামটি রোগের প্রকৃত জটিলতা এবং বহুমাত্রিক প্রভাবকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছিল না। শুধু ‘ovary’ বা ডিম্বাশয়ের সমস্যার মধ্যেই বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়ায় বহু ক্ষেত্রে রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছিল।
বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক, গবেষক এবং রোগী সংগঠনগুলির প্রায় ১৪ বছরের দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নামটি সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল The Lancet-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অফ এন্ডোক্রিনোলজিতেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘Polycystic’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। কারণ অনেক রোগীর শরীরে আদৌ ওভারিয়ান সিস্ট থাকে না। অথচ নামের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে এটি শুধুই ডিম্বাশয়ের রোগ। ফলে বহু ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হত না এবং চিকিৎসাও দেরিতে শুরু হতো।
নতুন PMOS নামের প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। ‘Polyendocrine’ অংশটি শরীরের একাধিক হরমোন সিস্টেমের সমস্যাকে বোঝায়। ‘Metabolic’ অংশটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের ঝুঁকির মতো বিপাকীয় সমস্যাকে তুলে ধরে। আর ‘Ovarian’ অংশটি প্রজনন ও ডিম্বাশয়ের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে।
চিকিৎসকদের মতে, এই নাম পরিবর্তনের ফলে রোগটি নিয়ে সচেতনতা অনেকটাই বাড়বে। মানুষ বুঝতে পারবেন যে এটি শুধুমাত্র পিরিয়ড বা সন্তানধারণ সংক্রান্ত সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও এই রোগ জড়িত।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ কোটি মহিলা এই সমস্যায় ভুগছেন বলে অনুমান করা হয়। সাধারণত PMOS আক্রান্তদের মধ্যে অনিয়মিত পিরিয়ড, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম বৃদ্ধি, দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া, ইনফার্টিলিটি, উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং রোগীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে, যেখানে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এখনও বড় সমস্যা, সেখানে এই ধরনের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত চিকিৎসক মহলের।


















