অলিম্পিকে সোনা জিতলে ৮ কোটি! ক্রীড়া পরিকাঠামো ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্যের

অলিম্পিকে সোনা জিতলে ৮ কোটি! ক্রীড়া পরিকাঠামো ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্যের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। অলিম্পিক পদকজয়ীদের জন্য বিপুল আর্থিক পুরস্কার, সরকারি চাকরির সুযোগ, জেলা ভিত্তিক ক্রীড়া মহোৎসব এবং আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে নতুন ক্রীড়া রূপরেখা সামনে আনল রাজ্য সরকার। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অলিম্পিকে সোনা জিতলে ৮ কোটি টাকার পুরস্কারের ঘোষণা।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে নিশীথ প্রামাণিক জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের আর্থিক পুরস্কার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আরও বড় মঞ্চে পৌঁছে দিতে আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রণোদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতলে ক্রীড়াবিদ পাবেন ৮ কোটি টাকা। রৌপ্য পদকজয়ীদের জন্য প্রস্তাবিত পুরস্কার ৬ কোটি টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদক পেলে দেওয়া হবে ৪ কোটি টাকা। আগে এই পুরস্কারের অঙ্ক ছিল যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ এবং ১০ লক্ষ টাকা।
শুধু অলিম্পিক নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও পুরস্কারের পরিমাণ বড়সড়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে ৫ কোটি, রুপোয় ৪ কোটি এবং ব্রোঞ্জে ২ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণজয়ীদের জন্য দেড় কোটি, রুপোয় ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপগুলির ক্ষেত্রেও নতুন পুরস্কার কাঠামো আনার কথা ঘোষণা করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। সেখানে সোনাজয়ীদের জন্য ২ কোটি, রুপোয় দেড় কোটি এবং ব্রোঞ্জে ১ কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ন্যাশনাল গেমসে পদকজয়ীদের পুরস্কারের অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে।
আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জয় করলে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ডিএসপি পদ পর্যন্ত সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক এবং কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ীদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে অ্যাডভাইসারি কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। আগামী দিনে খেলো ইন্ডিয়া এবং সাইয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্যের ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
একইসঙ্গে জেলার প্রতিভা তুলে আনতে ১২টি খেলাকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় ক্রীড়া মহোৎসব আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব কলকাতায় আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে অলিম্পিক মানের ট্র্যাক তৈরির উদ্যোগ এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের বর্তমান ভাস্কর্য পরিবর্তনের বিষয়েও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
নতুন ক্রীড়া নীতির মাধ্যমে বাংলার ক্রীড়া মানচিত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের বার্তাই দিল রাজ্য সরকার। খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভা বিকাশ— এই তিন দিকেই এবার বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে ক্রীড়ামহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top