স্কুলে বড় রদবদল, ভেঙে দেওয়া হল স্পনসরড স্কুলের পরিচালন সমিতি

স্কুলে বড় রদবদল, ভেঙে দেওয়া হল স্পনসরড স্কুলের পরিচালন সমিতি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষা ক্ষেত্রেও শুরু হল বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল। স্কুল স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব এবং হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে রাজ্যের সমস্ত স্পনসরড স্কুলের পরিচালন সমিতি বা ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত স্কুলগুলির প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুল পরিদর্শক বা এসআই (SI of Schools)।

বিকাশ ভবনের সেকেন্ডারি ব্রাঞ্চ থেকে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত ১৪ মে জারি হওয়া পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের সমস্ত স্পনসরড স্কুলের পরিচালন সমিতি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেই কারণেই স্কুলগুলির পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিক রাখতে ১৯৭২ সালের ‘ম্যানেজমেন্ট অব স্পনসরড ইনস্টিটিউশনস (সেকেন্ডারি) রুলস’-এর ২৫ নম্বর ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের বলা হয়েছে তাঁরা যেন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট এলাকার এসআইদের ওই স্কুলগুলির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেন। এই নির্দেশ কার্যকর করার কাজও দ্রুত শুরু হয়েছে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।

শিক্ষা মহলের একাংশের দাবি, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে মনোনীত সভাপতি ও সদস্যদের দিয়ে পরিচালন সমিতি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিগুলিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনপোষণ, পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেই সমস্ত রাজনৈতিক প্রভাব সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শিক্ষা দফতরের এই পদক্ষেপকে অনেকেই স্কুলগুলিকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে এই প্রশাসক নিয়োগ স্থায়ী নয় বলেই জানিয়েছে শিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালন সমিতি গঠন করা হবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশিকাও এসে পৌঁছেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান বা প্রধান পদে বসবেন কোনও পড়ুয়ার অভিভাবক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কমিটিতে থাকবেন ১৫ জন সদস্য। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলে সদস্য সংখ্যা হবে ২০ থেকে ২৫ জনের মধ্যে। নতুন কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই বছর।

শিক্ষা মহলের মতে, জাতীয় শিক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্কুলে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। একদিকে প্রশাসক বসিয়ে স্কুলের কাজ সচল রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে অভিভাবকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে স্কুলগুলিকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top