রাজ্য – নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেননি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে তাঁদের এই প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ফর্ম ফিলআপ এবং এনরোলমেন্ট করতে হবে। আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে বিশেষ এনরোলমেন্ট ড্রাইভ, যা চলবে টানা ৯০ দিন। যাঁদের নথিভুক্তকরণ সম্পূর্ণ হবে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় চলে আসবেন। ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিন অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মও প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রশাসনিক স্তরে এই কাজ পরিচালনার জন্য মুখ্যসচিব, অর্থসচিব, জেলাশাসক, বিডিও এবং পুর কমিশনারদের যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। আধার সংক্রান্ত কাজে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন, তাঁরাও এই প্রক্রিয়ার অংশ হবেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি আরও বলেন, একদিনে সকলের ফর্ম ফিলআপ করা সম্ভব নয়। ফর্মে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সেই তথ্য ব্যবহার করা যায়। সরকারের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা তৈরি করা।
অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, সেই বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএ আবেদনকারীরা এবং এসআইআর ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে আয়করদাতা, সরকারি বা আধা সরকারি কর্মী এবং যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
তিনি আরও বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ এবং নথিভুক্তকরণ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু থাকবে। যাঁরা দ্রুত এনরোলমেন্ট সম্পূর্ণ করবেন, তাঁরা জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে শুরু করবেন। তখন তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়েছে এবং সেই কারণেই নতুন করে স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন মাস ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা সরকারের লক্ষ্য।




















