পুরুষ হয়েও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা! চন্দ্রকোণায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, চাঞ্চল্য এলাকায়

পুরুষ হয়েও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা! চন্দ্রকোণায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, চাঞ্চল্য এলাকায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



মুর্শিদাবাদ – মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের পর এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় সামনে এল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প ঘিরে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, পুরুষ হয়েও প্রায় দু’বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছিল এক তৃণমূল নেতার পরিবারের অ্যাকাউন্টে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকায়।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম উত্তম কুমার সাউ। পেশায় তিনি একজন ঠিকা কর্মী এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা হিসেবেও পরিচিত। বিজেপির অভিযোগ, পুরুষ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে মহিলাদের জন্য চালু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিও তুলেছে বিজেপি। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তম কুমার সাউ। তাঁর দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। কয়েকদিন আগেই গোটা বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি জানিয়েছেন, উপভোক্তার নামের জায়গায় তাঁর নাম থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি তাঁর স্ত্রীর। এই সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগে এর আগেও এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতের নাম রাকিবুল শেখ। অভিযোগ, মহিলাদের জন্য চালু এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তিনিও ভোগ করছিলেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নের বৈঠকে রাকিবুলের নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, শুধুই কি ব্যক্তিগত স্তরে এই জালিয়াতি হয়েছে, নাকি এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে? তদন্তকারী সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে, এই ধরনের প্রতারণা বা ভুয়ো তথ্যের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও জালিয়াতি রুখতে প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে শাসকদলের একাংশের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top