দিল্লী – সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট (NEET-UG 2026)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক ও ছাত্র বিক্ষোভের প্রস্তুতি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, হাজার হাজার ছাত্র-যুবকের জমায়েত হতে পারে, তাই প্রায় ১০০০-এর বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে আজ দিল্লিতে পৌঁছেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। যদিও কর্মসূচির আগে তিনি জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণভাবে আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সংগঠিত করবেন এবং পুলিশের অনুমতি নিয়েই সমস্ত কার্যক্রম চালাতে চান। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রেখেই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও পরিবেশ সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অবক্ষয় নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তরুণদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠে এসেছে।
আন্দোলনের সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে যন্তরমন্তরে জমায়েত শুরু হওয়ার কথা। এরপর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থেকে মিছিল করে মূল সভাস্থলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে জাতীয় পতাকা বহন, ভিডিও রেকর্ডিং এবং পুলিশকে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উস্কানিমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উঠে এলেও এখন এটি একটি সংগঠিত ছাত্র-যুব আন্দোলনের রূপ নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লি জুড়ে উত্তেজনা থাকলেও প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী। তবে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।



















