রাজ্য – বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে আয়োজিত এই শিল্প সম্মেলনের ব্যয় এবং তার আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সম্মেলনের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং সেই খরচের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় সরকারের এক দশকের সাফল্য তুলে ধরতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজনের জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং সেই ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকার উদ্যোগী হবে বলেও তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বাংলায় বিপুল বিনিয়োগ আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন তেমনভাবে দেখা যায়নি। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জিত হয়নি বলেই তাঁর দাবি। ফলে ঘোষিত বিনিয়োগ ও বাস্তব বিনিয়োগের মধ্যে কতটা ফারাক রয়েছে, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এদিনের বক্তব্যে ফলতা কেন্দ্রিক বহুচর্চিত ‘পুষ্পা’ প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদিও ওই প্রসঙ্গে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি এদিন রাজি হননি।
তবে শুধুমাত্র অতীতের প্রকল্প ও ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার কথাই নয়, ভবিষ্যতের শিল্পোন্নয়ন নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্পায়নই সবচেয়ে কার্যকর পথ। সেই লক্ষ্যেই সরকার নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। এই প্রস্তাবগুলি মূল্যায়ন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
শুভেন্দুর মতে, শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি পেলে বেকারত্বের হার কমবে, বাইরে কাজ করতে যাওয়া বহু পরিযায়ী শ্রমিকের ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং রাজ্যের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




















