বিহার – আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগাসন করতে গিয়ে বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ মজার ছলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করেছেন তাঁর যোগাভ্যাসের দক্ষতা নিয়ে।
রাজনীতিতে সদ্য প্রবেশের পরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন নিশান্ত কুমার। তিনি বর্তমানে বিহার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আচরণ ও জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা দেখা যায়। এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাকে কেন্দ্র করেই তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কন্যাকুমারী থেকে লাদাখ, অরুণাচলপ্রদেশ থেকে গুজরাট— সর্বত্রই সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যোগাভ্যাসে অংশ নেন। এদিন পশ্চিমবঙ্গে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বিহারেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পাটনার পাটলিপুত্র স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বৃহৎ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার। অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তিনিও যোগাসনের বিভিন্ন ধাপ অনুশীলনের চেষ্টা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নিশান্ত কুমার জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে যোগব্যায়ামকে স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তাঁর মতে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তবে অনুষ্ঠানের সময় যোগাসনের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুশীলন করতে গিয়ে তাঁর কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়, যা পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু নির্দেশ অনুসরণ করতে গিয়ে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন বা ভারসাম্য রক্ষা করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সেই দৃশ্যগুলিই পরবর্তীতে নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বহু নেটিজেন মজার মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ তাঁর যোগাভ্যাসের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে হাস্যরসের দৃষ্টিতে দেখেছেন। যদিও এই নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চললেও সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, যোগ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি উৎসাহিত করা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে একজন জনপ্রতিনিধির অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং যোগব্যায়ামের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখা ইতিবাচক বার্তা বহন করে।



















