রাজ্য – বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তা ফের একবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের ফাইনাল উপলক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, খেলার মাঠে শুধুই খেলা হবে, আর রাজনীতির মঞ্চে হবে রাজনীতি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-কে ঘিরে একাধিক বিতর্কের আবহে তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ক্রীড়া মহল।
কয়েকদিন আগে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে ক্রীড়ামন্ত্রীকে ইডেনে ফাইনাল ম্যাচ দেখতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ইডেনে উপস্থিত হন ইন্দ্রনীল খাঁ। যদিও বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয়, তবে তার মধ্যেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সাক্ষাৎ ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সিএবি-কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছে। ‘থ্রেট কালচার’, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং খেলার সুযোগ নিয়ে অনিয়মের মতো অভিযোগ নিয়ে ক্রীড়া মহলে আলোচনা চলছে। প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়াও সম্প্রতি ক্রীড়াক্ষেত্রে ‘অপারেশন ক্লিন আপ’-এর ডাক দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনও সংস্থার নাম উল্লেখ করেননি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইডেনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো পশ্চিমবঙ্গেও খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলার উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং ক্রীড়াঙ্গনে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। তবে সিএবি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক বা বিভিন্ন চিঠি-পালটা চিঠির প্রসঙ্গে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি মূলত খেলা দেখতে এসেছেন এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে কিছু সাধারণ আলোচনা হয়েছে।
ক্রীড়ামন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের ক্রীড়া বিকাশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কলকাতাকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা নয়, বরং জেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে অসংখ্য প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে রয়েছেন, যাঁদের উপযুক্ত সুযোগ ও পরিকাঠামো দেওয়া গেলে তারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ইডেন গার্ডেন্স শুধু বাংলার নয়, বিশ্বের ক্রিকেট মানচিত্রে একটি ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে হবে। জেলার খেলোয়াড়দের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে বাংলার খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের আরও বেশি সুযোগ ও পরিচিতি দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার কথাও জানান ক্রীড়ামন্ত্রী।
ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা, প্রতিভা বিকাশ এবং খেলাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে ইডেন থেকে নতুন করে ক্রীড়া উন্নয়নের রূপরেখার ইঙ্গিত দিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের প্রতিভা তুলে আনা এবং সুযোগের পরিধি বাড়ানোর উপরই বিশেষ জোর দেওয়া হবে।



















