রাজ্য – রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। রবিবার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ‘করোনা রোগী’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, একটি অংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত রয়েছে, অন্যদিকে আরেকটি অংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিজেপি তাদের দলে নিতে আগ্রহী নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতার কথায়, বিজেপি নাকি তৃণমূলের এই বিদ্রোহী নেতাদের ‘কোভিড রোগী’ বা ‘করোনা ভাইরাস’-এর মতোই দেখছে এবং সেই কারণেই তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করছে না। বরং তাদের আলাদা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে। অধীরের মতে, এই ঘটনাই বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির বলে যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, তা আদতে কোনও আদর্শগত আন্দোলন নয়। বরং নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই কিছু নেতা আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন বলে তাঁর দাবি। অধীরের বক্তব্য, এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকলে নানা ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সহজ হয় বলে অনেকে মনে করছেন।
কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের গ্রহণ করেনি। তাঁর মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে রাজনৈতিকভাবে তারা এখন এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
যদিও অধীর রঞ্জন চৌধুরী কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে তাঁর মন্তব্যের নিশানায় ছিলেন সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থান নিয়ে আলোচনায় থাকা কয়েকজন তৃণমূল নেতা ও নেত্রী। পাশাপাশি বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয় মুখদের দিকেও তিনি পরোক্ষভাবে আঙুল তুলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অধীরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল বা বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের মন্তব্য আগামী দিনে আরও বিতর্ক উসকে দিতে পারে।


















