বীরভূমে ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের অপেক্ষায় ২৭৮ স্কুল, স্মার্ট ক্লাসরুম থেকে সোলার প্যানেলে আধুনিক শিক্ষার নতুন দিগন্ত

বীরভূমে ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের অপেক্ষায় ২৭৮ স্কুল, স্মার্ট ক্লাসরুম থেকে সোলার প্যানেলে আধুনিক শিক্ষার নতুন দিগন্ত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বীরভূম – জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বীরভূম জেলার স্কুল শিক্ষায় বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলার ১৯টি ব্লকে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এবার ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত স্কুলগুলির নাম ঘোষণার অপেক্ষা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি ব্লক থেকে একটি প্রাথমিক এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়কে মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পালাবদলের পর জেলার মোট ২৭৮টি বিদ্যালয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা ও পরিদর্শনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই বিদ্যালয়গুলির মধ্যে থেকে ধাপে ধাপে ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই প্রকাশ করা হবে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলির তালিকা।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়গুলিকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলিতে গড়ে তোলা হবে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, উন্নত খেলার পরিকাঠামো এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থাও চালু করা হবে।

প্রশাসনের দাবি, ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলিকে ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রকল্প ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বাকি ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।

বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল হাসান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়গুলিতে পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তা নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বহু বিদ্যালয় এই সমীক্ষার আওতায় এসেছে। নানুর ও লাভপুরের একাধিক শিক্ষা চক্রে সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো, শিক্ষার মান এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, ভেপুরা হাইস্কুল, বড়া শ্রীগৌরাঙ্গ বিদ্যালয়, যাদবলাল বিদ্যালয়, চৌহট্টা বিদ্যালয়-সহ আরও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একইভাবে একাধিক প্রাথমিক ও জুনিয়র বেসিক স্কুলও এই বাছাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দাবি, অতীতে বিভিন্ন কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা থাকলেও বর্তমানে সেই বাধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ফলে জেলার প্রায় ৫০টি বিদ্যালয়ের উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জেলার মোট ৬১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭৮টি বিদ্যালয় বাছাইপর্বে রয়েছে।

এখন রাজ্য সরকারের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে জেলার শিক্ষা মহল। অনুমোদন মিললেই বীরভূমের কোন কোন বিদ্যালয় ‘পিএমশ্রী’ তকমা পাবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার এই উদ্যোগ জেলার স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top