বিনোদন – টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একটি সাম্প্রতিক সফরকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। রবিবার তিনি সিপিএমের রাজ্য সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে গিয়ে বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরিচালক এবং বামপন্থী নেতা সৌরভ পালোধি সামাজিক মাধ্যমে প্রসেনজিৎ ও বিমান বসুর সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেন। সেই পোস্টে তিনি জানান, তাঁদের আসন্ন ছবি ‘অনেকদিন পর’-এর প্রযোজক হিসেবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বিমান বসুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সৌরভের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমান বসু নিয়মিত সিনেমা দেখেন এবং তাঁকে নতুন ছবিটি দেখানোর ইচ্ছা থেকেই এই সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়েছিল। ছবিটি আগামী ২৬ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। টলিউড মহলের একাংশের মতে, কোনও ছবির প্রচারের জন্য প্রসেনজিৎকে আগে কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে যেতে দেখা যায়নি। এমনকি কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আলোচনা করতেও তাঁকে সচরাচর দেখা যায় না। ফলে এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র ছবির প্রচারের উদ্দেশ্যে হয়েছিল কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
জল্পনা আরও বেড়েছে কারণ বিমান বসুর পাশাপাশি এদিন যুব বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেন প্রসেনজিৎ। একাধিক বাম নেতার সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। যদিও অভিনেতা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর টলিউডেও নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই টলিপাড়ার সঙ্গে বামপন্থী সাংস্কৃতিক পরিসরের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বলা হয়। অতীতে শিল্পী সংগঠন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে বহু বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
এই আবহে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আলিমুদ্দিন সফরকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। কেউ এটিকে নিছক একটি সাংস্কৃতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মনে করছেন, আবার কেউ এর মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সমীকরণের ইঙ্গিত খুঁজছেন। যদিও বাস্তবে এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বার্তা সামনে আসেনি।
ফলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই সফর আপাতত টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এর কোনও বৃহত্তর তাৎপর্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।


















