প্রধানমন্ত্রী – আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এ বছর কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হল এক বৃহৎ কর্মসূচি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রথমবার এত বড় পরিসরে শহরে যোগ দিবস পালিত হওয়ায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। শুধু কলকাতাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও যোগ দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে কলকাতাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের জন্য কলকাতার সকল ভাই-বোনকে আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রাণবন্ত এই শহরে যোগ দিবস পালন করতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ২১ জুন এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণ-উদযাপনে পরিণত হয়েছে।
এদিন রেড রোডের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুধুমাত্র উপস্থিত থাকতেই নয়, সক্রিয়ভাবে যোগব্যায়ামে অংশ নিতেও দেখা যায়। শিবির পরিদর্শনের সময় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং অনেকের যোগাভ্যাসের ভঙ্গি সংশোধন করতেও দেখা যায় তাঁকে। তাঁর এই আন্তরিক অংশগ্রহণ উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহের সঞ্চার করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক সীমানার ভিন্নতা অতিক্রম করে এটি এখন এক বৈশ্বিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসা যোগ দিবসের ছবিগুলি যোগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রমাণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্যে ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ঋষি অরবিন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্বামী বিবেকানন্দকে। তাঁদের আদর্শ ও দর্শন মানবকল্যাণ এবং আত্মিক বিকাশের পথে আজও অনুপ্রেরণা জোগায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


















