সৌদি আরবকে উড়িয়ে চেনা ছন্দে স্পেন, ৪-০ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে ঘুরে দাঁড়াল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা

সৌদি আরবকে উড়িয়ে চেনা ছন্দে স্পেন, ৪-০ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে ঘুরে দাঁড়াল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


খেলা – বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল স্পেনকে ঘিরে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই সমস্ত সমালোচনার জবাব দিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। রবিবার রাতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে ৪-০ গোলের বড় জয় তুলে নিল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, একটি গোল করেন লামিনে ইয়ামাল এবং অপর গোলটি আসে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী ভুল থেকে। শেষ মুহূর্তে ফেরান তোরেসের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। গোলের জন্য তাদের আগ্রাসনের ফলও মেলে খুব দ্রুত। ১০ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে সৌদি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মঞ্চে এক বিশেষ রেকর্ডেরও অংশীদার হন তিনি। ১৯৫৮ সালে কিংবদন্তি পেলের গড়া একটি ঐতিহাসিক কীর্তির পাশে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন স্পেনের এই উদীয়মান ফুটবলার।

প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে স্পেন। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া একটি আক্রমণে দানি ওলমোর বুদ্ধিদীপ্ত পাস সৌদি রক্ষণকে বিপাকে ফেলে দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। মাত্র তিন মিনিট পর আবারও স্পেনের আক্রমণে ভেঙে পড়ে সৌদি রক্ষণভাগ। মার্ক কুকুরেয়ার নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং দানি ওলমোর হেড থেকে বল পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জালে বল পাঠান ওইয়ারসাবাল। মুহূর্তের মধ্যে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে বলের দখল এবং আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। ৪০ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন ওইয়ারসাবাল, কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে ৩-০ গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশ কোচ লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে নিয়ে নতুন খেলোয়াড় নামালেও আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৯ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার ভলি প্রথমে গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও পরে সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল তামবাকতির গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪-০।

এরপর ম্যাচের গতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে স্পেন। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলে তারা। সৌদি আরব পুরো ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ৮০ মিনিটে আবদুল্লাহ আল-হামদানের একটি শট স্প্যানিশ গোলরক্ষক দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফাবিয়ান রুইসের পাস থেকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন ফেরান তোরেস। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) সাহায্যে অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের দুর্দান্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন।

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল স্পেন। প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে দল যে আবারও ছন্দে ফিরেছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই দাপুটে পারফরম্যান্স তারই প্রমাণ দিল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top