স্নাতক ভর্তিতে পিছিয়ে কলকাতার কলেজ, শীর্ষ তালিকায় নেই কোনও মহানগর প্রতিষ্ঠান

স্নাতক ভর্তিতে পিছিয়ে কলকাতার কলেজ, শীর্ষ তালিকায় নেই কোনও মহানগর প্রতিষ্ঠান

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – স্নাতক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে মফস্বলের কলেজগুলির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে কলকাতার কলেজগুলি। উচ্চশিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার কলেজগুলির জন্য মোট অনুমোদিত আসন সংখ্যা প্রায় ৯৩ হাজার হলেও এখনও পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ছাত্রছাত্রী। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভর্তির নিরিখে রাজ্যের প্রথম ১৫টি কলেজের তালিকায় কলকাতার একটি কলেজও জায়গা করে নিতে পারেনি।

রাজ্যে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তির জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু হয়েছিল গত ১৯ মে। রাজ্যের ৪০০-রও বেশি কলেজে ভর্তির জন্য প্রায় ৩ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী আবেদন করেছিলেন। তবে ভর্তি প্রক্রিয়ার বর্তমান চিত্রে স্পষ্ট, জেলার কলেজগুলির প্রতিই বেশি ঝোঁক দেখা যাচ্ছে পড়ুয়াদের মধ্যে।

সূত্রের খবর, ‘আপগ্রেড রাউন্ড’ শুরু হওয়ার আগে ভর্তির সংখ্যার বিচারে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ। সেখানে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ২,৮০০ জন ছাত্রছাত্রী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কলেজ, যেখানে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২,৭০০। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হাওড়ার উলুবেড়িয়া কলেজ, যেখানে প্রায় ২,৫০০ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা-র মতে, কলকাতায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজগুলিতে ভর্তির আবেদন কমছে। অন্যদিকে, জেলাগুলিতে এক কলেজ থেকে অন্য কলেজের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের এলাকার কলেজেই ভর্তি হতে আগ্রহী হচ্ছেন।

তবে শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কলেজগুলিতে অনুমোদিত আসন সংখ্যা প্রায় ৭২ হাজার হলেও এখনও পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার ছাত্রছাত্রী।

সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে। গত এক দশকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবণতা খতিয়ে দেখা হবে এবং আগামী বছরের ভর্তি প্রক্রিয়ার আগে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top