সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে ৯০ দিনের বিশেষ যাচাই, স্বচ্ছতা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ সরকারের

সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে ৯০ দিনের বিশেষ যাচাই, স্বচ্ছতা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ সরকারের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সরকার। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। প্রশাসনিক মহলের মতে, সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ, বদলি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষভাবে দেখা হবে, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ বা প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না। পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ বা বদলির কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু নিয়োগ সংক্রান্ত নথিই নয়, গত দুই বছরে প্রত্যেক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের মূল্যায়নও করা হবে। কর্মস্থলে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা, আচরণ এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ করা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে কারা প্রকৃতপক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কারা শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত রয়েছেন, তা যাচাই করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের ঘটনাও সামনে এসেছে। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, অনেকেই নিয়মিত কাজে যোগ না দিয়েও সরকারি তালিকায় নাম রেখে সুবিধা ভোগ করছেন। সেই কারণেই প্রতিটি নিয়োগ এবং কর্মক্ষমতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি দফতরে অতিরিক্ত কর্মী চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ ও মোতায়েনের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বাজেট অধিবেশনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতি জমা হয়েছে। সেই কারণেই পুরো কাঠামোকে নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ৯০ দিনের যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত কর্মীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বা অনিয়মিত নিয়োগের বিষয়গুলিও সামনে আসবে। ফলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ের সঠিক ব্যবহার এবং সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবস্থায় জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top