রাজ্য – নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে, চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীকে আপাতত গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হলেও তাঁর উপর একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা রইল না বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার সূত্রপাত নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির বিবরণ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে। অভিযোগ উঠেছে, অদিতি মুন্সী এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর মালিকানাধীন বিপুল সম্পত্তির সম্পূর্ণ তথ্য নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় এর আগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অদিতি মুন্সী ও দেবরাজ চক্রবর্তী। আদালত তাঁদের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ শুনানিতে দেবরাজের ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা আর বহাল রাখা হয়নি।
অন্যদিকে অদিতি মুন্সীর ক্ষেত্রে আদালত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে আপাতত গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা বজায় রেখেছে। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে স্থানীয় আদালতে নিজের মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে এবং তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
শুধু তাই নয়, আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে তিনি আপাতত দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এছাড়াও বাগুইআটি থানা এলাকার মধ্যে অবস্থান না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি যেখানে থাকবেন, সেই ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মামলার সাক্ষী বা অভিযোগকারীদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব খাটানোর সুযোগ রোধ করতেই এই ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলায় আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অতিরিক্ত ধারাও যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুনানির সময় আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও করে। আদালতের মতে, সম্পত্তি হস্তান্তর করা নিজে কোনও বেআইনি কাজ নয়। তবে নির্বাচনের আগে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি হাতবদল হওয়ার ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং তা তদন্তের দাবি রাখে। সেই কারণেই অর্থ দফতর এবং পুলিশ পৃথকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহলের বিশেষ নজরে রয়েছে। বিশেষ করে দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিন খারিজ হওয়ার পর তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















