রাজ্য – জোড়াফুল প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, স্বাধীনতা দিবসের আগেই চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে যায়, তাহলে সেই শিবিরই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দুই শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ১৯৯৭ সালে দল গঠনের প্রস্তুতিপর্ব থেকে শুরু করে আন্দোলন ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি এবং তথ্যপ্রমাণ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের হিসাব-সহ বিভিন্ন নথি কমিশনে জমা দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক। পাশাপাশি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবির পক্ষে দুই পক্ষকেই নিজেদের নথি ও প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের বক্তব্য এবং নথিপত্র কমিশনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তরফে বিদ্রোহী শিবিরকে অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কমিশনের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন।
এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে জোড়াফুল প্রতীক ও তৃণমূল কংগ্রেসের নাম নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলের। কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে দুই পক্ষই এই বিষয়ে নতুন করে কোনও মন্তব্য করতে চাইছে না বলেও জানা যাচ্ছে।




















