রাজ্য – আগামী শিক্ষাবর্ষের আগে রাজ্যের স্কুলগুলিতে সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তকে বড়সড় পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করতে তিন দিনের আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করছে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের গঠিত বিশেষ সিলেবাস কমিটি। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম আধুনিক যুগের উপযোগী করে তোলাই এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে যাবতীয় আলোচনা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির।
আবাসিক কর্মশালায় প্রতিটি বিষয়ের পাঠ্যবই নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হবে। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নতুন সিলেবাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেই সংশোধিত পাঠ্যবই ছাপার জন্য পাঠানো হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ কমানোর পাশাপাশি মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিষয়ভিত্তিক ধারণা ও বোঝাপড়ার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু নয়, শ্রেণিকক্ষের পঠনপাঠনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলেই বিষয়গুলি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভরতা কমে, সেই লক্ষ্যেই নতুন শিক্ষণ পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। আবাসিক কর্মশালায় প্রাথমিকভাবে যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে, তার ভিত্তিতেই আগামী দু’মাসের মধ্যে একটি খসড়া রিপোর্ট তৈরি করে পেশ করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্যের স্কুলগুলির নতুন সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে।




















